শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জের বাহুবলে পুলিশের হাত থেকে দুই আসামীর হ্যান্ডকাপসহ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার ১০ দিনেও গ্রেফতার হয়নি। তবে পুলিশ এসল্ট মামলায় আসামী হয়ে জেলের ঘানি টানছে এলাকার নিরীহ লোকজন। ঘটনার সাথে কোনভাবেই জড়িত নয় এমন লোক গ্রেফতার হওয়ায় গ্রামবাসীর মাঝে বিরাজ করছে আতঙ্ক। অথচ ঘটনায় জড়িতরা আজও অধরা।
জানা যায়, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে উপজেলার পূর্ব জয়পুর গ্রামে একটি মারামারির মামলায় আব্দুল জাহির (৪৫) ও তার পুত্র হৃদয় (২০) কে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সেলিম, এএসআই শিতিল ঘোষ, কনষ্টেবল রাজীব পুরকায়স্থ ও মিজানুর রহমানের উপর হামলা চালিয়ে আটক পিতা পুত্রকে হ্যান্ডকাপসহ ছিনিয়ে নেয় তাদের স্বজনরা।
এ ঘটনার সাথে আব্দুল জাহিরের স্ত্রী দিলারা, ভাগ্না নজরুল সহ ৫/৬ জন ছাড়া তাদের বাড়ি বা গ্রামের অন্য কোন লোক জড়িত নয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা। এর কিছুক্ষণ পর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে একই গ্রামের আব্রু মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম (৩৫), রফিক মিয়ার স্ত্রী অলিনা খাতুন (৩২), রফিক মিয়ার বোন জাহানারা খাতুন (২৮), আব্দুল জাহির এর ছেলে জীবন (১৫), আব্দুর রহিমের পুত্র মনসুর আলম (২০) ও মৃত ছেরাগ আলীর স্ত্রী শহিদা খাতুন (৫০) কে আটক করে।
তাদেরকে ছাড়িয়ে নেওয়ার তদবীর শুরু হলে পলাতক পিতা পুত্রকে স্বেচ্ছায় হাজির হতে সময় বেধে দেয়া হয়। ওই সময়ের মাঝে পলাতকরা হাজির বা গ্রেফতার না হওয়ায় বিষয়টি জঠিল হয়ে উঠে এবং পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি দুপুরে এসআই সেলিম বাদি হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে সরকারি কাজে বাঁধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ এনে অজ্ঞাত দেড়শত লোককে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় প্রধান আসামী করা হয় একই গ্রামের আব্দুর রহিমের পুত্র নির্মাণ শ্রমিক মনসুর আলমকে। তার পরিবারের দাবী ঘটনার সময় মনসুর আলম মিরপুর বাজারের উদ্দেশ্যে রাস্তা দিয়ে পায়ে হেঁটে যাচ্ছিল এবং নিরাপদ দুরত্ব থেকে পুলিশের সাথে আব্দুল জাহিরের লোকদের ধস্তাধস্তির ঘটনা প্রত্যক্ষ করে।
এক পর্যায়ে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং পরদিন তাকে প্রধান আসামি করে পৌনে দুইশ লোকের বিরুদ্ধে পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় অন্যান্যদের মত মনসুর আলমও এখন জেল হাজতের বাসিন্দা।
অপরদিকে ঘটনার ২২ ঘন্টা পর হ্যান্ডকাপের ভাঙ্গা অংশ উদ্ধার হলেও পলাতক আব্দুল জাহির ও তার পুত্র হৃদয়সহ মুল হোতারা রয়েছে এখনও অধরা।
উল্লেখ্য, বাহুবল উপজেলার পূর্ব জয়পুর গ্রামের জাহির মিয়ার পরিবার ও তারই আপন ছোট ভাই কালামের স্ত্রী নাছিমা বেগমের সাথে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে এক সপ্তাহ পূর্বে মারামারি হয়। এ ব্যাপারে নাছিমা বেগম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার বিকেলে ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কামাইছড়া ফাড়ির ইনচার্জ এসআই সেলিম ও এএসআই শীতিল ঘোষ একদল পুলিশ জাহির মিয়া ও তার ছেলে হৃদয়কে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে। এসময় পুলিশের হাত থেকে গ্রেফতারকৃত আসামীরা হ্যান্ডকাপসহ পালিয়ে যায়।